খুলনা বিভাগ

সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও শিল্প-কৃষির সমৃদ্ধ হাব

খুলনা বিভাগ (Khulna Division) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, শিল্প ও ভৌগোলিক কেন্দ্র। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সিংহভাগ, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা, যশোর আইটি পার্ক এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের সুবাদে এই বিভাগটি জাতীয় অর্থনীতি ও ব্লু-ইকোনমিতে এক বিশেষ অবদান রাখে। পদ্মা, রূপসা, ভৈরব ও মধুমতী নদীর পলল অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক ও শিল্প নগরী খুলনা।

২০২৬ সালে এসে খুলনা বিভাগ পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প, মেগা ইকো-ট্যুরিজম, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ (সাদা সোনা) এবং নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থব্যবস্থায় বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মোংলা সমুদ্রবন্দর, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর এবং খুলনা রূপসা বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারণে এই বিভাগটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ শিপিং, ট্রেডিং ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ক্রমবিকাশ

খুলনা বিভাগের ইতিহাস প্রাক-মুসলিম ও সুলতানি আমলের ধর্মপ্রচারক হযরত খানজাহান আলী (র:)-এর ঐতিহাসিক অবদান, মোঘল শাসন এবং ব্রিটিশ আমলের নীল বিদ্রোহের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। ১৫ শতকে হযরত খানজাহান আলী (র:) এই অঞ্চলে আগমন করে ‘খলিফাতাবাদ’ (বর্তমান বাগেরহাট) রাজ্য পত্তন করেন এবং ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য দীঘি ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণ করেন।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলা এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা উত্তরকালে পূর্ণাঙ্গ ‘খুলনা বিভাগ’ প্রশাসনিকভাবে রূপ লাভ করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে (সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর ও মেজর জিয়াউদ্দিন) খুলনা বিভাগের মুক্তিকামী মানুষ বীরত্বের সাথে সংগ্রাম পরিচালনা করেন। খুলনা শহরসহ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত ২৩শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকবাহিনীর সাথে তীব্র লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মুক্ত হয়।

প্রধান ঐতিহাসিক মাইলফলক

সময়কাল / মাইলফলকঐতিহাসিক ঘটনাকৌশলগত গুরুত্ব
১৫ শতকহযরত খানজাহান আলী (র:) কর্তৃক ‘খলিফাতাবাদ’ পত্তনএই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার, ইউনেস্কো ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ।
১৮৮২খুলনা জেলা গঠন ও মোংলা বন্দর অঞ্চল বিকাশব্রিটিশ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সামুদ্রিক জলপথ বাণিজ্যের সূচনা।
১৯৭১৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধদক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত যুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের বীরত্বপূর্ণ শহীদ হওয়া।
২০২৬ (বর্তমান রূপরেখা)মেগা পোর্ট অটোমেশন ও খুলনা-পদ্মা রেল সংযোগআধুনিক ব্লু-ইকোনমি, ইকো-ট্যুরিজম ও সরাসরি রাজধানী ঢাকা সংযোগ।

মৌলিক তথ্য ও বিভাগীয় প্রধান রেজিস্ট্রি

খুলনা বিভাগ এককভাবে দেশের হিমায়িত চিংড়ি (সাদা সোনা), পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং বিশ্বখ্যাত সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রধান উৎস।

মূল তথ্য রেজিস্ট্রি

বিষয়শ্রেণীরেকর্ড তথ্য
অফিসিয়াল নামখুলনা বিভাগ (Khulna Division)
কৌশলগত শ্রেণীবিন্যাসসুন্দরবন ম্যানগ্রোভ হাব, মোংলা পোর্টেজ, বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য ও এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি
বিভাগীয় সদর দপ্তরখুলনা
জেলা সংখ্যা১০টি (খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা)
মোট আয়তনআনুমানিক ২২,২৮৫.৪১ বর্গকিলোমিটার
আনুমানিক জনসংখ্যা (২০২৬)প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ
অফিসিয়াল মুদ্রাবাংলাদেশী টাকা (BDT / ৳)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (BST / UTC+6)
সরকারী ভাষাবাংলা (জাতীয় ভাষা), স্থানীয় দক্ষিণ-পশ্চিম উপভাষা ও ইংরেজি
প্রধান অর্থনৈতিক ইঞ্জিনহিমায়িত গলদা ও বাগদা চিংড়ি, মোংলা সমুদ্রবন্দর, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর, যশোর ধান-ফুল চাষ ও পাট শিল্প

প্রশাসনিক পরিচালনা ও বিভাগীয় শাসন ব্যবস্থা

খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন একজন বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (KMP) কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিভাগীয় প্রশাসনিক নেতৃত্ব

পদবী / সংস্থাপ্রশাসনিক ভূমিকাপ্রধান প্রশাসনিক লক্ষ্য
বিভাগীয় কমিশনারবিভাগীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকেন্দ্র নির্দেশিত উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন, ১০টি জেলার ডিসিদের তদারকি ও পোর্ট সমন্বয়।
ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ)বিভাগীয় পুলিশ প্রধান (মেট্রোপলিটন ব্যতিত)রেঞ্জের ৯টি জেলায় অপরাধ দমন, সীমান্ত সুরক্ষা তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।
কেএমপি কমিশনার (KMP)খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানশিল্প নগরী খুলনার অভ্যন্তরীণ নাগরিক নিরাপত্তা, পোর্টেজ ট্রাক ট্রাফিক ও শান্তি শৃঙ্খলা।

প্রশাসনিক কাঠামো

খুলনা বিভাগকে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সুবিধার্থে ১০টি সমৃদ্ধ জেলা এবং ১টি সিটি কর্পোরেশনে বিভক্ত করা হয়েছে।

প্রথম-স্তরের প্রশাসনিক বিভাগসমূহ

খুলনা বিভাগের অন্তর্গত ১০টি উপজেলা ভিত্তিক জেলা:

খুলনা জেলা

  1. বাগেরহাট জেলা

  2. সাতক্ষীরা জেলা

  3. যশোর জেলা

  4. ঝিনাইদহ জেলা

  5. চুয়াডাঙ্গা জেলা

  6. মেহেরপুর জেলা

  7. নড়াইল জেলা

  8. মাগুরা জেলা

  9. কুষ্টিয়া জেলা

সিটি কর্পোরেশন

  1. খুলনা সিটি কর্পোরেশন (KCC)

    নগর অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও নগর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত।

    (দ্রষ্টব্য: মূল নগরী এলাকা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।)

জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা

ভারতের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ সমন্বিতভাবে সীমান্ত ও সমুদ্র নিরাপত্তা বিধান করে।

নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা সংস্থা

সংস্থাপ্রশাসনিক এখতিয়ারকৌশলগত দায়িত্ব
খুলনা রেঞ্জ পুলিশ & KMPবিভাগীয় ১০টি জেলা ও খুলনা মহানগরীঅভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিসিক শিল্প নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা ও মেহেরপুর সীমান্তভারত সীমান্ত পাহারা, পেট্রাপোল-বেনাপোল পোর্ট নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড & নৌ পুলিশসুন্দরবন ও মোংলা চ্যানেল এলাকাসুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষা, জলদস্যু দমন এবং সামুদ্রিক চ্যানেল নিরাপত্তা।

ভৌগোলিক পরিবেশ, নদ-নদী ও অববাহিকা

খুলনা বিভাগের ভূ-প্রকৃতি মূলত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, রূপসা-ভৈরব নদীর পলি সমভূমি এবং গঙ্গা অববাহিকার উর্বর কৃষ্ণের মাটির সংমিশ্রণ।

  • ভূ-প্রকৃতি: সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, লবণাক্ত ও স্বাদু জলের ইকো-সিস্টেম এবং উর্বর সমতল প্লাবনভূমি।

  • প্রধান নদ-নদী: রূপসা নদী, ভৈরব নদী, পশুর নদী, মধুমতী নদী, কপোতাক্ষ নদ, চিত্রা নদী ও সুন্দরবনের নদ-নদীসমূহ।

  • সংরক্ষিত এলাকা ও প্রকৃতি: সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান (ইউনেস্কো হেরিটেজ), কটকা ও কচিখালী অভয়ারণ্য, করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।

  • অবকাঠামো ও মোংলা পাওয়ার: রামপাল ৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, খুলনা সৌরবিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস সঞ্চালন লাইন।

সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাহিত্যিক অবদান

খুলনা বিভাগ লালন সাহিত্যের পদাবলী, খানজাহান আলীর স্থাপত্য, মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্য এবং সুন্দরবনের বনজীবী বাওয়ালি-মাওয়ালি সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত।

  • সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: কুষ্টিয়ার লালন উৎসব (ছেঁউড়িয়া), সুন্দরবনের বনবিবি পূজা ও মেলা, কপোতাক্ষ পাড়ের মধুমেলা ও রবীন্দ্র স্মারক উৎসব।

  • ঐতিহাসিক নিদর্শন: ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট), রূপসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মারক, মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাগরদাঁড়ি (যশোর), মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ (মেহেরপুর)।

  • ভাষা ও কথ্যরূপ: প্রমিত বাংলা ভাষার পাশাপাশি সুন্দরবন ঘেঁষা খুলনার আঞ্চলিক কথ্যরূপ এবং কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চলের সাবলীল উপভাষা।

  • ঐতিহ্যবাহী খাবার: খুলনার বিখ্যাত চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংস, গলদা চিংড়ির মালাইকারি, নড়াইলের মিষ্টি, চুয়াডাঙ্গার পান ও যশোরের খেজুর গুড়।

অর্থনীতি ও কৌশলগত খাতসমূহ

খুলনা বিভাগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি এবং পোশাকের কাঁচামাল আমদানির মূল কেন্দ্র।

খাতবিভাগীয় অবদানঅর্থনৈতিক প্রভাব
হিমায়িত খাদ্য & চিংড়ি প্রসেসিংদেশের প্রধান হিমায়িত গলদা ও বাগদা চিংড়ি উৎসসাদা সোনা নামে খ্যাত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শত শত মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি।
আন্তর্জাতিক বন্দর & পোর্টেজমোংলা সমুদ্রবন্দর ও পোর্ট চ্যানেলদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর যা মেগা কন্টেইনার শিপিং ও অটোমোবাইল আমদানির প্রধান কেন্দ্র।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্যবেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরভারত থেকে কাঁচামাল, সুতা, যন্ত্রপাতি ও খাদ্যশস্য আমদানির বৃহত্তম লাইফলাইন পথ।
কৃষি ও ফুল চাষগদখালী (যশোর), ধান ও শাকসবজিযশোরের গদখালীকে ‘বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী’ বলা হয়; বিপুল পরিমাণ গোলাপ, রজনীগন্ধা সরবরাহ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্র

খুলনা বিভাগকে দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রধান উচ্চশিক্ষা, আইটি এবং চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (KU), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET), খুলনা মেডিকেল কলেজ (KMC), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া)।

  • স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (KMCH), ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল।

পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

পদ্মা সেতু, খুলনা-ঢাকা ট্রেন লাইন এবং খুলনা-যশোর মহাসড়কের মাধ্যমে এই বিভাগটি রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সুসংযুক্ত।

সম্পদধরনকৌশলগত অবস্থা
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও এক্সপ্রেসওয়েমেগা সরাসরি যোগাযোগঢাকা থেকে সরাসরি খুলনা ও বেনাপোল পর্যন্ত দ্রুতগামী ট্রেন ও বাসের প্রধান রুট।
খুলনা ও যশোর রেলওয়ে জংশনপ্রধান ট্রেন লাইনরূপসা এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেস (কলকাতা-খুলনা) এর ট্রানজিট কেন্দ্র।
যশোর বিমানবন্দর & প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দরএভিয়েশন হাবদক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আকাশপথ যাতায়াত, বিজনেস ট্রাভেল ও পর্যটকদের প্রধান বিমানবন্দর।

পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

খুলনা বিভাগে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

গন্তব্যক্যাটাগরিআকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য
সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন (বাগেরহাট/খুলনা/সাতক্ষীরা)ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানরয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র ও সুদৃশ্য সুন্দরবন ক্যানেল।
ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট)ইউনেস্কো স্থাপত্য ঐতিহ্য১৫ শতকে হযরত খানজাহান আলী (র:) নির্মিত ঐতিহাসিক মোঘল-সুলতানি আমলের গম্বুজ মসজিদ।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ (মেহেরপুর)মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস স্থানস্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ও ম্যাপ।
লালন আখড়া ও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি (কুষ্টিয়া)সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক শিলাইদহ কুঠিবাড়ি।

সারসংক্ষেপ

২০২৬ সালে খুলনা বিভাগ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য, সুন্দরবনের সুসংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ ইকো-সিস্টেম, পদ্মা সেতুর অভূতপূর্ব রেল যোগাযোগ এবং বেনাপোল-মোংলা লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক অপ্রতিরোধ্য চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনের সবুজ গহিন, কপোতাক্ষের রূপালী স্রোত, লালনের একতারা এবং চিংড়ি শিল্পের অর্থনীতি খুলনা বিভাগকে বৈশ্বিক ও জাতীয় মানচিত্রে এক অনন্য গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

বিভাগীয় বিশেষ সংবাদ ও হাইলাইটস

  • মোংলা সমুদ্রবন্দরে ডিজিটাল অটোমেটেড কন্টেইনার টার্মিনালের শুভ উদ্বোধন: চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ে নতুন রেকর্ডের সূচনা।

  • সুন্দরবন ইকো-ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান চালুকরণ: করমজল ও কটকায় সবুজ প্লাস্টিকমুক্ত ট্যুরিজম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ওয়াইল্ডলাইফ ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু।

  • যশোর গদখালী ফুল প্রসেসিং ও এক্সপোর্ট হাবের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তাজা ফুল সরাসরি রপ্তানির যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আমাদের লক্ষ্য ও বার্তা

এএফপি গ্লোবাল নলেজ হাব-এর মাধ্যমে আমরা খুলনা বিভাগের একটি বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যবহুল ও আধুনিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী ও ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার জন্য আমরা তথ্যের গুণগত মান ও সঠিকতা নিশ্চিত করি।

যোগাযোগ করুন

খুলনা বিভাগের প্রশাসনিক তথ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন বা ভ্রমণ নির্দেশিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য আমাদের সম্পাদনা দলকে বার্তা পাঠান: