চট্টগ্রাম বিভাগ

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী, সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় লজিস্টিকস হাব

চট্টগ্রাম বিভাগ ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক সম্পদ (ব্লু-ইকোনমি) এবং কৌশলগত নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রায় ৩৩,৯০৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিভাগটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যা একই সাথে সুবিশাল বঙ্গোপসাগরীয় উপকূল, গভীর সমুদ্রবন্দর, আন্তর্জাতিক সীমানা (ভারত ও মিয়ানমার) এবং বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত। চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, প্রস্তাবিত ও নির্মিত একাধিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EZ) এবং বিশাল পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এই বিভাগটি জাতীয় জিডিপি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে সিংহভাগ অবদান রাখছে।

২০২৬ সালে এসে চট্টগ্রাম বিভাগ আন্তর্জাতিক শিল্প বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকসের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা ৮-লেনের জাতীয় মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল), দোহাজারী-কক্সবাজার আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনের ফলে বিভাগের সংযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রামের ভারী শিল্প, চট্টগ্রামের ইস্পাত ও জাহাজ ভাঙা শিল্প, বাঁশখালী ও মহেশখালীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ির সমৃদ্ধ পর্যটন ও পাহাড়ি কৃষির সুবাদে এই বিভাগটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি ও বিবর্তন

চট্টগ্রাম বিভাগের ইতিহাস হলো বিশ্বের প্রাচীনতম সামুদ্রিক বাণিজ্যের রুট, আরব ও ইউরোপীয় বনিকদের আগমন, সমৃদ্ধ আরাকান ও মোগল শাসন, পর্তুগিজ নাবিকদের উপস্থিতি এবং আধুনিক স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তর গড়ার এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। প্রাচীনকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর “পোর্টো গ্র্যান্ডে” (Porto Grande) নামে বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ছিল। ৯ম শতক থেকেই মরোক্কান পর্যটক ইবনে বতুতা থেকে শুরু করে চীন ও ইউরোপের পর্যটকেরা বঙ্গোপসাগরের এই বন্দরনগরীকে এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে মোগল আমলে “ইসলামাবাদ” নামে পরিচিত লাভ করে এই অঞ্চলটি তৎকালীন বাংলা সুবাহর প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসনামলে চট্টগ্রাম বিভাগ একাধিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ১৯৩০ সালে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’ এবং ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।

২০২৬ সালে এসে চট্টগ্রাম বিভাগ কেবল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর, হাই-টেক হাব এবং ব্লু-ইকোনমির সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান রূপকার।

ঐতিহাসিক মাইলফলক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন

চট্টগ্রাম বিভাগের বিবর্তন মূলত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ইতিহাস এবং দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় অর্জনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সময়কালঐতিহাসিক মাইলফলককৌশলগত ও সামাজিক গুরুত্ব
৯ম – ১৬শ শতকআন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বন্দরআরব, ফার্সি ও পর্তুগিজ বণিকদের আগমন; বিশ্ব বাণিজ্য মানচিত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের আবির্ভাব।
১৯৩০চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনমাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লব।
১৯৭১স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধকালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের চট্টগ্রাম সেক্টরের ঐতিহাসিক ভূমিকা।
১৯৯৫-২০২৪মেগা অবকাঠামো বিপ্লববঙ্গবন্ধু টানেল, কক্সবাজার রেল সংযোগ এবং মাতারবাড়ি মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন ও পরিচালনা শুরু।
২০২৬ ট্র্যাজেক্টরিবৈশ্বিক ডিপ-সি লজিস্টিকস হাবগভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ব্লু-ইকোনমির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে শীর্ষ অবস্থান।

মৌলিক বিভাগীয় তথ্য ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সংযোগ রক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল।

মূল রেজিস্ট্রি

ক্যাটাগরিপ্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক তথ্য
অফিসিয়াল নামচট্টগ্রাম বিভাগ (Chittagong Division)
কৌশলগত পরিচয়বাণিজ্যিক রাজধানী, বাংলাদেশের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার, ব্লু-ইকোনমি এক্সিস
বিভাগীয় সদরচট্টগ্রাম (দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও প্রধান বাণিজ্যিক নগরী)
মোট আয়তনপ্রায় ৩৩,৯০৮.৫৫ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা (২০২৬ আনুমানিক)প্রায় ৩,৬০,০০,০০০ (৩৬ মিলিয়ন)
অফিসিয়াল মুদ্রাবাংলাদেশী টাকা (BDT / ৳)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (BST / UTC+6)
অফিসিয়াল ভাষাবাংলা (সরকারি ও দাপ্তরিক সর্বক্ষেত্রে ব্যবহৃত)
প্রধান অর্থনৈতিক ইঞ্জিনচট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, ভারী ও ইস্পাত শিল্প, পেট্রোকেমিক্যাল, জাহাজ ভাঙা ও নির্মাণ, পর্যটন এবং পাহাড়ি কৃষি

সরকার ও প্রশাসনিক বিন্যাস

চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় কমিশনার। উপকূলীয় সীমানা, পাহাড়ি অঞ্চল এবং দুটি সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের (ভারত ও মিয়ানমার) সাথে সীমান্ত থাকার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিভাগীয় নির্বাহী কাঠামো

পদবিপ্রশাসনিক ভূমিকা ও মূল দায়িত্ব
বিভাগীয় কমিশনারবিভাগের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা; ১১টি জেলার উন্নয়ন সমন্বয়, রাজস্ব পরিচালনা ও প্রকল্প তদারকি।
ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG)চট্টগ্রাম রেঞ্জের (মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত) সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রধান।
সিএমপি কমিশনার (CMP)চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক অঞ্চল রক্ষা ও ট্রাফিক পরিচালনা।

প্রশাসনিক বিভাগ (জেলাসমূহ)

চট্টগ্রাম বিভাগ প্রশাসনিকভাবে ১১টি জেলা নিয়ে গঠিত, যা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, সামাজিক অবকাঠামো এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে মোট ১১টি জেলা রয়েছে:

  1. চট্টগ্রাম জেলা

  2. কক্সবাজার জেলা

  3. বান্দরবান জেলা

  4. রাঙামাটি জেলা

  5. খাগড়াছড়ি জেলা

  6. ফেনী জেলা

  7. নোয়াখালী জেলা

  8. লক্ষ্মীপুর জেলা

  9. চাঁদপুর জেলা

  10. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

  11. কুমিল্লা জেলা

আইন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা, গভীর পার্বত্য বনাঞ্চল এবং দুটি দেশের সাথে স্থল সীমান্ত থাকায় চট্টগ্রাম বিভাগে দেশের অন্যতম শক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যকর রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সর্ববৃহৎ ঘাটিগুলো এই বিভাগেই অবস্থিত, যা বঙ্গোপসাগরের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া পাহাড়ি জেলাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সামুদ্রিক নজরদারি ও সীমান্ত ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিভাগের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিভাগীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও কাজ

সংস্থা / প্রতিষ্ঠানএখতিয়ার ও দায়িত্ব২০২৬ সালের প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডবঙ্গোপসাগরীয় সামুদ্রিক সীমানা ও সমুদ্রবন্দরসমূহসামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু-ইকোনমি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিপিং রুট সুরক্ষা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP)চট্টগ্রাম শহরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবাণিজ্যিক নগরীর ক্রাইম জোন নিয়ন্ত্রণ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশিং ও স্মার্ট ট্রাফিক।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)ভারত ও মিয়ানমার স্থল সীমান্তসীমান্ত চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ বন্ধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।

ভূগোল, পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-প্রকৃতি পর্বত, নদী, সুবিশাল বঙ্গোপসাগরীয় উপকূল এবং সমভূমির এক অনবদ্য প্রাকৃতিক সংমিশ্রণ।

  • ভূ-প্রকৃতি: বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি এলাকা (পার্বত্য চট্টগ্রাম), সমতল উপকূলীয় ভূখণ্ড এবং দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত।

  • নদী ও জলাভূমি: কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মেঘনা এবং ফেনি নদী এই বিভাগের পানি সেচ, পানি বিদ্যুৎ এবং বাণিজ্যিক নদীপথ নিয়ন্ত্রণ করে। রাঙ্গামাটির প্রাকৃতির সৌন্দর্যমণ্ডিত কাপ্তাই হ্রদ দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার।

  • পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা: ২০২৬ সালে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প এবং সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীর (সেন্টমার্টিন) সংরক্ষণে বিশেষ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।

ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি

চট্টগ্রাম বিভাগ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষা এবং শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক রঙিন মিলনমেলা।

  • সামাজিক সম্প্রীতি: মূল ভূখণ্ডের মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ইত্যাদি) বৈচিত্র্যময় মেলবন্ধন।

  • উৎসব ও আচার: বৈসাবি (পার্বত্য বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু), জব্বারের বলীখেলা, চাটগাঁইয়া ঐতিহ্যবাহী মেলা এবং ধর্মীয় পার্বণগুলো বর্ণিলভাবে উদযাপিত হয়।

  • ভাষা ও লোকসংস্কৃতি: মূল বাংলা ভাষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র ‘চাটগাঁইয়া’ উপভাষা এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা বিভাগের প্রধান ভাষারূপ।

  • খাবার ও রন্ধনশিল্প: চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস, কালা ভূনা, ড্রাই ফিশ বা শুঁটকি ভর্তা, ডাব নারিকেল এবং কক্সবাজারের সামুদ্রিক সি-ফুড বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

অর্থনীতি ও মূল খাতসমূহ

চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি এবং দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

খাত২০২৬ সালে ভূমিকাঅর্থনৈতিক প্রভাব
সামুদ্রিক বাণিজ্য ও বন্দরচট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরদেশের ৯০% আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা ও বিপুল রাজস্ব অর্জন।
ভারী ও টেক্সটাইল শিল্পমিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (BSMSN) ও বিএসআরএম/কেএসআরএমইস্পাত, শিপ বিল্ডিং, তৈরি পোশাক ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধানতম কেন্দ্র।
পর্যটন ও আতিথেয়তাকক্সবাজার, বান্দরবান, সাজেক ও সেন্টমার্টিনজাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত থেকে বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।
পাহাড়ি কৃষি ও মৎস্যপার্বত্য অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরীয় মৎস্য চাষজুমিং কৃষি, রাবার চাষ, ফলমূল এবং সামুদ্রিক মৎস্য রপ্তানি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উদ্ভাবন

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

  • উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

  • স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (CMCH), এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম, মা ও শিশু হাসপাতাল এবং আধুনিক নেভাল ও মিলিটারি হাসপাতালসমূহ।

  • উদ্ভাবন: সামুদ্রিক বিজ্ঞান গবেষণা (ইনস্টিটিউট অফ মেরিন সাইন্সেস) এবং সি-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট উদ্ভাবনে চট্টগ্রাম বিভাগ দেশের নেতৃত্বে রয়েছে।

পরিবহন ও মেগা অবকাঠামো

চট্টগ্রাম বিভাগ গত এক দশকে বাংলাদেশের সর্বাধুনিক মেগা অবকাঠামোগুলোর কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে যুক্ত করছে।

সম্পদধরণ২০২৬ সালের বর্তমান অবস্থা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলতলদেশীয় রিভার টানেলনদী কেন্দ্রিক দু’টি পারকে যুক্ত করে “ওয়ান সিটি টু টাউন” গড়ে তুলেছে।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরমাদার ভেসেল পোর্টগভীর সমুদ্র বাণিজ্যের মাধ্যমে সরাসরি বৈশ্বিক শিপিং রুটে যুক্ত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও ৮-লেনজাতীয় এক্সপ্রেসওয়েচট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল দ্রুত সারাদেশে পৌঁছানোর মূল লজিস্টিক পথ।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেল সংযোগআন্তর্জাতিক রেল সংযোগসরাসরি রেলপথে দ্রুত পর্যটক ও মালামাল কক্সবাজারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা।

পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ

গন্তব্যক্যাটাগরিআকর্ষণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতবিশ্বমানের প্রাকৃতিক বিস্ময়১২০ কিমি দীর্ঘ পৃথিবীর বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকত।
কাপ্তাই হ্রদ ও রাঙ্গামাটিপাহাড়ি সৌন্দর্য ও নীল জলরাশিঝুলন্ত সেতু, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং নৌ ভ্রমণের অপরূপ পরিবেশ।
সাজেক ভ্যালি & বান্দরবানপর্বত ও মেঘের উপত্যকানিলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, মেঘের রাজ্য ও ট্রেকিং রুটসমূহ।
মহামায়া লেক ও মীরসরাইপরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজমদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ, কায়াকিং ও জলপ্রপাত।

সারাংশ

২০২৬ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাণিজ্যিক পাওয়ারহাউস, সামুদ্রিক নিরাপত্তার ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় সিংহদ্বার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। মেগা অবকাঠামো, আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশ্বমানের পর্যটন শিল্পের কারণে এই বিভাগটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী শাসন ব্যবস্থা, কৌশলগত ভৌগোলিক সুবিধা এবং শিল্পায়নের ওপর ভর করে চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ ধাপে নিয়ে যেতে প্রধান নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে চলেছে।

সংবাদ ও বিশেষ নিবন্ধ

  • মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের পূর্ণাঙ্গ অপারেশনের শুভসূচনা: আন্তর্জাতিক সরাসরি শিপিং লাইনে বাংলাদেশের নতুন যুগ।

  • বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে শিল্পায়নের জোয়ার: আনোয়ারা ও পটিয়ার দক্ষিণ পাড়ে নতুন ১00টি শিল্প কারখানার কাজ শুরু।

  • কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ফ্লাইট চালু: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের জন্য নতুন এভিয়েশন হাব।

আমাদের লক্ষ্য

এএফপি গ্লোবাল নলেজ হাব (AFP Global Knowledge Hub)-এর মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রাম বিভাগের নির্ভুল, নিরপেক্ষ এবং হালনাগাদ তথ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা চট্টগ্রাম বিভাগের বাণিজ্যিক অবকাঠামো, ১১টি জেলার পরিসংখ্যান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রফেশনাল চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

ইমেইল: shababalsharif@gmail.com

ওয়েবসাইট: https://shababalsharif.com

যোগাযোগ করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের অর্থনৈতিক তথ্য, প্রশাসনিক পরিসংখ্যান বা রিসার্চ কোলাবোরেশনের জন্য:

ইমেইল: shababalsharif@gmail.com

ওয়েবসাইট: https://shababalsharif.com