প্যাসিফিক মহাসাগরের মাঝে ছোট্ট একটি দ্বীপ—ঈস্টার আইল্যান্ড (স্থানীয় নাম: Rapa Nui)।
এখানেই সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে শত শত বিশাল পাথরের মূর্তি, যেগুলোর প্রতিটি মাথা থেকে বুক পর্যন্ত উঁচু ও অতিকায়।
এই মূর্তিগুলোর নাম Moai।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—কে তৈরি করেছিল এই মূর্তিগুলো? কিভাবে? এবং কেন?
Moai মূর্তিগুলোর পরিচয়
মোট মূর্তির সংখ্যা: প্রায় ৯০০
গড় উচ্চতা: ১৩ ফুট (প্রায় ৪ মিটার)
গড় ওজন: ১৪ টন
সবচেয়ে বড় Moai: Paro, যার ওজন ৮২ টনের বেশি!
মূর্তিগুলো সাধারণত দ্বীপের উপকূল ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে, এবং প্রতিটির মুখ দ্বীপের অভ্যন্তরের দিকে ফিরানো।
কারা তৈরি করেছিল Moai?
গবেষকদের মতে, Moai মূর্তিগুলো তৈরি করেছে Rapa Nui জাতিগোষ্ঠী, যারা Polenesian বংশোদ্ভূত এবং খ্রিস্টীয় ১২০০–১৬০০ সালের মধ্যে দ্বীপে বসতি স্থাপন করে।
তারা নিজেদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও সম্মান জানাতেই এই বিশাল মূর্তিগুলোর নির্মাণ শুরু করে।
কিভাবে তৈরি করল এত বড় মূর্তি?
Moai মূর্তিগুলো খোদাই করা হয় দ্বীপের Rano Raraku নামক আগ্নেয়গিরির ঢাল থেকে আহরিত volcanic tuff (এক ধরনের নরম আগ্নেয় পাথর) দিয়ে।
মূর্তিগুলো তৈরি করে লোহার সরঞ্জাম ছাড়াই, পাথর পাথরে ঘষে তৈরি করা হতো।
এরপর বিশেষ কাঠের স্লেড ও রশির মাধ্যমে মূর্তিগুলোকে বহু কিলোমিটার দূরে স্থানান্তর করা হতো।
অনেকে ধারণা করেন, Moai-কে “হেঁটিয়ে” আনা হতো—rocking motion-এর মাধ্যমে (Reference: Hunt & Lipo, 2011)।
তারা কেন Moai তৈরি করেছিল?
প্রধান বিশ্বাস:
Moai ছিল পূর্বপুরুষদের প্রতীক, এবং এগুলো দ্বীপবাসীদের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করত।
মূর্তিগুলোকে স্থাপন করা হতো Ahu নামক মঞ্চে, যা ছিল একপ্রকার সমাধিক্ষেত্র।
রহস্য ও ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন Moai কেবল মাথা—কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ মূর্তির শরীরও রয়েছে, যা বহু বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
কিছু মিথ বলছে এটি ভিনগ্রহবাসী তৈরি করেছে! কিন্তু গবেষণায় এসব মত খণ্ডিত হয়েছে।
(Reference: National Geographic, “Unlocking Easter Island”, 2000)
বিলুপ্তি ও পরিবেশগত বিপর্যয়
Moai নির্মাণের জন্য প্রচুর গাছ কাটা হয়েছিল, যা পরে দ্বীপে পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে।
মাটিক্ষয়, খাদ্যসংকট এবং সামাজিক সংঘাতের ফলে একসময় এই উন্নত সমাজ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
আজকের Easter Island
বর্তমানে এটি চিলির অংশ এবং UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃত।
Moai গুলো বিশ্ববাসীর জন্য এক বিস্ময়কর ইতিহাস ও প্রকৌশল দক্ষতার নিদর্শন।
উপসংহার
Moai মূর্তিগুলো শুধুই প্রাচীন শিল্প নয়, বরং এক সভ্যতার আত্মা, বিশ্বাস এবং সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
আজও তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যেন প্রাচীন পূর্বপুরুষদের মৌন ভাষায় কিছু বলছে—”আমরা ছিলাম, আমরাও গড়েছিলাম…”
রেফারেন্স
Hunt, T. & Lipo, C. (2011). The Statues that Walked: Unraveling the Mystery of Easter Island
National Geographic (2000). Unlocking Easter Island
Smithsonian Magazine, “Easter Island’s End”, 2007
UNESCO World Heritage Centre

