ধামরাই উপজেলা

ঐতিহ্যবাহী পিতল-কাঁসা শিল্প, ঐতিহাসিক রথযাত্রা ও মেগা কৃষি-শিল্প হাব

ধামরাই উপজেলা (Dhamrai Upazila) বাংলাদেশের ঢাকা জেলার সর্ব উত্তরের প্রশাসনিক ইউনিট, প্রাচীন কারুশিল্পের ঐতিহ্যবাহী ভূমি এবং দ্রুত শিল্পায়নের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা অন্যতম শীর্ষ সমৃদ্ধ এলাকা। রাজধানী ঢাকার উত্তর-পশ্চিম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ৫৭৩.০৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল উপজেলাটি গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার সীমান্তবর্তী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক জংশন। উত্তরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা, দক্ষিণে মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা, পূর্বে সাভার উপজেলা এবং পশ্চিমে মানিকগঞ্জের সাতুরিয়া উপজেলা দ্বারা ধামরাই পরিবেষ্টিত।

২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি এবং ২০২৬ সালে এসে ধামরাই উপজেলা প্রাচীন পিতল-কাঁসা হস্তশিল্প, বিশ্বখ্যাত শতাব্দী প্রাচীন ধামরাই রথযাত্রা, কাওয়ালীপাড়া ও কালামপুর মেগা বিসিক শিল্প এলাকা, আধুনিক এগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ঢাকার অন্যতম প্রধান শিল্প ও সাংস্কৃতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ধলেশ্বরী, বংশী ও গাজীখালী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই উপজেলাটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের (N5) সুবাদে দেশের কেন্দ্র ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান রুট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ক্রমবিকাশ

ধামরাই অঞ্চলের ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। প্রাচীনকালে এটি কামরূপ, পাল ও সেন রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘ধামরাই’ নামের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত আছে যে, সুপ্রাচীন ‘ধর্মরাজিকা’ বা ‘ধর্মরাজ’ শব্দ থেকে কালক্রমে এটি ‘ধামরাই’ নাম ধারণ করে। প্রাচীন পাল আমলে এখানে বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং পরবর্তীতে সেন আমলে হিন্দু সংস্কৃতির বিশেষ বিকাশ ঘটে। ১৬ শতকে শ্রীচৈতন্যদেবের অনুসারী যশোরজীত ঠাকুরের হাত ধরে ঐতিহাসিক ধামরাই শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রার সূচনা হয়, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত রথগুলোর একটি।

১৮শ ও ১৯শ শতকে ধামরাইয়ের পিতল ও কাঁসার সুক্ষ্ম তৈজসপত্র, মূর্তিশিল্প এবং গৃহস্থালি সামগ্রী বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করে। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ আমলে ধামরাই প্রথম থানা হিসেবে প্রশাসনিক রূপ লাভ করে এবং পরবর্তীকালে ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ই ডিসেম্বর ধামরাই স্বাধীন হয়। বুড়িপাড়া, সূয়াপুর ও কাওয়ালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলেন।

প্রধান ঐতিহাসিক মাইলফলক

সময়কাল / মাইলফলকঐতিহাসিক ঘটনাকৌশলগত গুরুত্ব
১৬ শতকশ্রীশ্রী যশোমাধবের ঐতিহাসিক ধামরাই রথযাত্রার সূচনাউপমহাদেশের প্রাচীনতম এবং সর্ববৃহৎ রথযাত্রা উৎসবের পত্তন।
১৯১৪ / ১৯৮৩ধামরাই থানা ও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তরঢাকা জেলার উত্তর-পশ্চিমের প্রশাসনিক অবকাঠামো লাভ।
১৯৭১ (৭ ডিসেম্বর)মহান মুক্তিযুদ্ধে ধামরাই শত্রুমুক্তকরণঢাকার প্রবেশদ্বারে বিজয়ের পতাকা উত্তোলন।
২০২৬ (বর্তমান রূপরেখা)বিসিক ফার্মা ও অটোমোবাইল শিল্প জোন প্রতিষ্ঠাকারুশিল্পের পাশাপাশি ভারী ওষুধ ও এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রির মেগা হাব।

মৌলিক তথ্য ও উপজেলার প্রধান রেজিস্ট্রি

ধামরাই উপজেলা এককভাবে ঐতিহ্যবাহী পিতল-কাঁসা শিল্প, ঐতিহাসিক রথ উৎসব এবং ঢাকা জেলার অন্যতম বৃহৎ ডেইরি ও কৃষি উৎপাদক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

মূল তথ্য রেজিস্ট্রি

বিষয়শ্রেণীরেকর্ড তথ্য
অফিসিয়াল নামধামরাই উপজেলা (Dhamrai Upazila)
কৌশলগত শ্রেণীবিন্যাসধাতব কারুশিল্প ও সংস্কৃতি, বিসিক শিল্প এলাকা, ফার্মা হাব ও কৃষি শস্যভাণ্ডার
প্রশাসনিক সদর দপ্তরধামরাই শহর (ধামরাই পৌরসভা)
পৌরসভা ও ইউনিয়ন১টি পৌরসভা (ধামরাই) ও ১৬টি ইউনিয়ন
মোট আয়তন৫৭৩.০৮ বর্গকিলোমিটার (২২১.২৬ বর্গমাইল)
আনুমানিক জনসংখ্যা (২০২৬)প্রায় ৫.৫ লক্ষ
অফিসিয়াল মুদ্রাবাংলাদেশী টাকা (BDT / ৳)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ মান সময় (BST / UTC+6)
সরকারী ভাষাবাংলা (জাতীয় ভাষা), আঞ্চলিক ধামরাই উপভাষা ও ইংরেজি
প্রধান অর্থনৈতিক ইঞ্জিনপিতল-কাঁসা কুটির শিল্প, তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প, বাণিজ্যিক ডেইরি-পোল্ট্রি ও কৃষি

প্রশাসনিক পরিচালনা ও স্থানীয় সরকার

ধামরাই উপজেলা প্রশাসন উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) এবং ধামরাই পৌরসভার যৌথ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনিক নেতৃত্ব

পদবী / সংস্থাপ্রশাসনিক ভূমিকাপ্রধান প্রশাসনিক লক্ষ্য
উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও (UNO)উপজেলা নির্বাহী প্রধানকেন্দ্র নির্দেশিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা।
ধামরাই পৌরসভা (Dhamrai Pourashava)মেয়র নেতৃত্বাধীন নগর বোর্ডপৌর এলাকার নাগরিক সেবা, রাস্তাঘাট ড্রেনেজ ও বর্জ্য অপসারণ তদারকি।
ঢাকা জেলা পুলিশ (ধামরাই থানা)পুলিশ প্রশাসন প্রধানউপজেলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কালামপুর-কাওয়ালীপাড়া শিল্পাঞ্চল ও মহাসড়ক নিরাপত্তা।

প্রশাসনিক কাঠামো

ধামরাই উপজেলাকে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সুবিধার্থে ১টি পৌরসভা এবং ১৬টি সমৃদ্ধ ইউনিয়নে বিভক্ত করা হয়েছে।

প্রথম-স্তরের প্রশাসনিক বিভাগসমূহ

ধামরাই উপজেলার অন্তর্গত ১টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন:

  1. ধামরাই পৌরসভা
  2. চৌহাট ইউনিয়ন
  3. নান্নার ইউনিয়ন
  4. আমতা ইউনিয়ন
  5. বাইশাকান্দা ইউনিয়ন
  6. বালিয়া ইউনিয়ন
  7. ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন
  8. ধামরাই ইউনিয়ন
  9. গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন
  10. যাদবপুর ইউনিয়ন
  11. কুল্লা ইউনিয়ন
  12. কুশুরা ইউনিয়ন
  13. রোয়াইল ইউনিয়ন
  14. সানোড়া ইউনিয়ন
  15. সোমভাগ ইউনিয়ন
  16. সূয়াপুর ইউনিয়ন
  17. সুতিপাড়া ইউনিয়ন

জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও বিশেষ শিল্প নিরাপত্তা

ধামরাই উপজেলায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধামরাই থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে।

নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা সংস্থা

সংস্থাপ্রশাসনিক এখতিয়ারকৌশলগত দায়িত্ব
ধামরাই থানা (ঢাকা জেলা পুলিশ)সমগ্র উপজেলা এলাকাঅপরাধ দমন, সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভিআইপি প্রটোকল সিকিউরিটি।
গাজীপুর-কালামপুর হাইওয়ে পুলিশঢাকা-আরিচা মহাসড়ক (N5)মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা।
ধামরাই ফায়ার স্টেশনউপজেলা ও শিল্পাঞ্চলশিল্প কারখানা, ফার্মা ও আবাসিক এলাকায় জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার।

ভৌগোলিক পরিবেশ, নদ-নদী ও অববাহিকা

ধামরাই উপজেলার ভূ-প্রকৃতি মূলত ধলেশ্বরী, বংশী ও গাজীখালী নদীর উর্বর পলল সমভূমি নিয়ে গঠিত।

  • ভূ-প্রকৃতি: নদীর প্লাবন সমভূমি, চরাঞ্চল ও উর্বর কৃষি জমি।

  • প্রধান নদ-নদী: বংশী নদী, ধলেশ্বরী নদী ও গাজীখালী নদী।

  • সংরক্ষিত এলাকা ও ফার্মিং: কালামপুর ও ধামরাই এগ্রো-প্যাকেজিং ফার্ম, দুগ্ধ খামার।

  • অবকাঠামো ও এনার্জি: ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ (ধামরাই গ্রিড), বিসিক এনার্জি লাইন ও তিতাস গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্ক।

সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাহিত্যিক অবদান

ধামরাই উপজেলা সুপ্রাচীন পিতল-কাঁসার ধাতব ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা এবং লোকজ গ্রামীণ মেলার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত।

  • সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: আষাঢ় মাসের ঐতিহাসিক ধামরাই রথযাত্রা ও মেলা, মহালয়া উৎসব, নবান্ন ও বৈশাখী মেলা।

  • ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: ধামরাই রথ প্রাঙ্গণ, ঐতিহাসিক যশোমাধব মন্দির, বালিয়া রাজবাড়ী, সূয়াপুর প্রাচীন চৌধুরী বাড়ি।

  • ভাষা ও কথ্যরূপ: প্রমিত বাংলা ভাষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ধামরাই ও মানিকের উপভাষিক মিশ্রণ।

  • ঐতিহ্যবাহী খাবার: ধামরাইয়ের বিখ্যাত তিলের খাজা, খাঁটি গাভীর দুধের মিষ্টি ও ছানা, ধলেশ্বরীর তাজা মাছ।

অর্থনীতি ও কৌশলগত খাতসমূহ

ধামরাই উপজেলা ঐতিহ্যবাহী পিতল-কাঁসা কারুশিল্প, দেশের শীর্ষ ওষুধ শিল্প এবং কমার্শিয়াল ডেইরি উৎপাদনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

খাতউপজেলাভিত্তিক অবদানঅর্থনৈতিক প্রভাব
পিতল-কাঁসা কারুশিল্পধামরাই বাজারের ঐতিহ্যবাহী ধাতব ভাস্কর্য পরিবারসমূহহিন্দু দেবী মূর্তি, প্রদীপ, তামা-পিতলের শো-পিস বিশ্বজুড়ে রফতানি ও কোটির অধিক বাণিজ্য।
ওষুধ ও শিল্পাঞ্চল (Pharmaceuticals)কালামপুর ও সোমভাগ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টারএকমি, স্কয়ারসহ দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ কারখানাসমূহ।
কৃষি ও বাণিজ্যিক ডেইরি১৬টি ইউনিয়নের উর্বর কৃষিজমি ও খামারঢাকা মেগাসিটিতে দৈনিক লাখ লাখ লিটার দুগ্ধ, ধান, আলু ও টাটকা সবজি সরবরাহ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্র

ধামরাই উপজেলা মানসম্মত শিক্ষা ও আঞ্চলিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ধামরাই সরকারি কলেজ, ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (১৯১৪), কালামপুর পলিটেকনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও কুশুরা বিশ্বাসী উচ্চ বিদ্যালয়।

  • স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র: ধামরাই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কালামপুর ট্রমা সেন্টার ও প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহ।

পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক (N5) ধামরাই উপজেলার বুক চিড়ে চলে গেছে, যা রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও মানিকগঞ্জের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করে।

সম্পদধরনকৌশলগত অবস্থা
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক (N5)প্রধান জাতীয় মহাসড়কধামরাইকে ঢাকা গাবতলী ও আরিচা/পাটুরিয়া ফেরিঘাটের সাথে যুক্ত করার প্রধান মহাসড়ক।
কালামপুর-কাওয়ালীপাড়া-কালিয়াকৈর সড়কআঞ্চলিক মহাসড়কধামরাইকে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলার সাথে সরাসরি যুক্ত করার সংযোগ পথ।
ধামরাই বাস স্ট্যান্ড & কালামপুর বাস স্টপপ্রধান পরিবহন হাবঢাকার গুলিস্তান, গাবতলী ও সাভারগামী লোকাল ও ইন্টার-ডিষ্ট্রিক্ট বাসের স্টেশন।

পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

ধামরাই উপজেলায় রয়েছে শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক মন্দির এবং ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী।

গন্তব্যক্যাটাগরিআকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য
ধামরাই রথ ও শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দিরধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য৩৭ ফুট উঁচু সুদৃশ্য কাষ্ঠনির্মিত রথ এবং ঐতিহাসিক যশোমাধব মন্দির।
ধামরাই পিতল-কাঁসা হস্তশিল্প গ্রামকারুশিল্প পর্যটন স্পটপিতল ও কাঁসা গলিয়ে প্রাচীন ধাতব মূর্তি ও তৈজসপত্র তৈরির লাইভ রূপরেখা।
বালিয়া রাজবাড়ী (কাওয়ালীপাড়া)প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যব্রিটিশ আমলের সুদৃশ্য কারুকার্যময় জমিদার বাড়ি ও ঐতিহাসিক পুকুর দীঘি।

সারসংক্ষেপ

২০২৬ সালে ধামরাই উপজেলা শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পিতল-কাঁসা কারুশিল্প, ঐতিহাসিক রথযাত্রার বিশ্বখ্যাত রূপ, কালামপুরের গতিশীল মেগা ফার্মা শিল্প এবং উন্নত ডেইরি ও কৃষি উৎপাদনের সমন্বয়ে সাভারের পরেই ঢাকা জেলার উত্তর-পশ্চিমের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বংশী নদীর বাতাস, যশোমাধব মন্দিরের ঘণ্টা ধ্বনি, ধাতব কারিগরের হাতুড়ির শব্দ এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আধুনিক গতি ধামরাই উপজেলাকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও শিল্প মানচিত্রে এক অনন্য ও গৌরবময় আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উপজেলাভিত্তিক বিশেষ সংবাদ ও হাইলাইটস

  • ধামরাই পিতল-কাঁসা শিল্পকে ইউনেস্কো অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন: মেটাল ক্রাফট কারিগরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা।

  • কালামপুর বিসিক ফার্মা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন: নতুন শতাধিক শিল্প কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

  • ধামরাই সরকারি হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট উদ্বোধন: স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আমাদের লক্ষ্য ও বার্তা

এএফপি গ্লোবাল নলেজ হাব-এর মাধ্যমে আমরা ধামরাই উপজেলার একটি বস্তুনিষ্ঠ, তথাক্রান্তিক ও আধুনিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার জন্য আমরা তথ্যের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করি।

যোগাযোগ করুন

ধামরাই উপজেলার প্রশাসনিক তথ্য, কারুশিল্প বিনিয়োগ, পরিবহন বা ভ্রমণ নির্দেশিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য আমাদের সম্পাদনা দলকে বার্তা পাঠান: