শেরপুর জেলা

গারো পাহাড়, সীমান্ত জনপদ ও মধ্য–উত্তর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জেলা

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্য–উত্তরাঞ্চলের একটি সীমান্তসংলগ্ন ও প্রাকৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় জেলা। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে অবস্থিত এই জেলা গারো পাহাড়, বনভূমি, নদী ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য পরিচিত। ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত শেরপুর ভৌগোলিক ও পরিবেশগত দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।


🏛️ জেলা গঠন ও ঐতিহাসিক পটভূমি

শেরপুর অঞ্চলের ইতিহাস পাহাড়ি জনপদ, কৃষি সমাজ এবং প্রশাসনিক রূপান্তরের ধারায় গড়ে উঠেছে।

সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ধারা

সময়কালগুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
প্রাচীন যুগকামরূপ অঞ্চলের প্রভাব
মধ্যযুগপাহাড় ও সমতলভিত্তিক জনবসতি
ব্রিটিশ শাসনবৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার অংশ
১৯৮৪শেরপুর জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা
আধুনিক যুগসীমান্ত ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা

🧭 মৌলিক জেলা তথ্য

বিষয়তথ্য
জেলার নামশেরপুর
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলা সদরশেরপুর
আয়তনপ্রায় ১,৩৬৪ বর্গ কিমি
জনসংখ্যা (২০২৫ আনু.)~১৪–১৫ লক্ষ
জেলা প্রশাসকজেলা প্রশাসক (ডিসি)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম (UTC+6)
ভৌগোলিক অবস্থানমধ্য–উত্তর বাংলাদেশ (সীমান্তসংলগ্ন)

⚖️ প্রশাসনিক কাঠামো

শেরপুর জেলার প্রশাসনিক কাঠামো পাহাড়ি ও গ্রামীণ বাস্তবতার সমন্বয়ে পরিচালিত।

  • জেলা প্রশাসক (ডিসি)

  • অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)

  • থানা প্রশাসন

  • পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ


🗺️ শেরপুর জেলার উপজেলা ও থানা সমূহ

শেরপুর জেলার অন্তর্গত ৫টি উপজেলা:

  1. শেরপুর সদর উপজেলা

  2. নালিতাবাড়ী উপজেলা

  3. ঝিনাইগাতী উপজেলা

  4. শ্রীবরদী উপজেলা

  5. নকলা উপজেলা


🏘️ স্থানীয় সরকার কাঠামো

  • পৌরসভা: শেরপুর, নালিতাবাড়ী, নকলা

  • ইউনিয়ন পরিষদ: সব উপজেলায় বিদ্যমান

  • সিটি কর্পোরেশন: নেই


🌐 ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশ

  • সীমান্ত: ভারত (মেঘালয়)

  • প্রধান নদী: মহারশী, ভোগাই

  • ভূমির ধরন: পাহাড়, টিলা ও সমতল

  • বনভূমি: গারো পাহাড় সংলগ্ন বন

  • জলবায়ু: উপ-ক্রান্তীয় মৌসুমি

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর একটি


🛡️ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

সংস্থাদায়িত্ব
বাংলাদেশ পুলিশজেলা আইন-শৃঙ্খলা
র‍্যাববিশেষ অভিযান
বিজিবিসীমান্ত নিরাপত্তা
বন বিভাগবন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ

🕊️ ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি

বিষয়তথ্য
ভাষাবাংলা (শেরপুর আঞ্চলিক উপভাষা)
প্রধান ধর্মইসলাম
অন্যান্য ধর্মহিন্দু, খ্রিস্টান
সংস্কৃতিপাহাড়ি ও গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি

গারো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রভাব শেরপুরের বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে।


📈 অর্থনীতি ও প্রধান খাত

খাতবিবরণ
কৃষিধান, সবজি
বনজ সম্পদসীমিত (সংরক্ষিত)
ক্ষুদ্র শিল্পকৃষিভিত্তিক
বাণিজ্যসীমান্ত ও আঞ্চলিক

শেরপুর জেলা কৃষি ও পরিবেশ–সমন্বিত অর্থনীতির একটি উদাহরণ।


🎓 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

খাততথ্য
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসরকারি কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
স্বাস্থ্যশেরপুর সদর হাসপাতাল
শিক্ষা হারজাতীয় গড়ের কাছাকাছি

✈️ যোগাযোগ ও অবকাঠামো

  • ময়মনসিংহ–শেরপুর মহাসড়ক

  • সীমান্ত সড়ক সংযোগ

  • গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক

  • পাহাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা


🏞️ পর্যটন ও ঐতিহ্য

  • গারো পাহাড়

  • ভোগাই নদীর তীর

  • পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য

  • বনভূমি এলাকা


🌍 জাতীয় ভূমিকা

  • পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ

  • সীমান্ত নিরাপত্তা

  • কৃষি উৎপাদন


📝 সারসংক্ষেপ

শেরপুর জেলা পাহাড়, বন ও সমতলের এক অনন্য সংমিশ্রণ। গারো পাহাড়সংলগ্ন ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কারণে এই জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল।


নিউজ ও আর্টিকেল

নিচের শিরোনামগুলোতে ক্লিক করে এই অংশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধসমূহ পড়ুন:


🎯 আমাদের লক্ষ্য

AFP Global Knowledge Hub–এ আমাদের লক্ষ্য হলো তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও আপডেটেড জাতীয় প্রোফাইল উপস্থাপন করা—যাতে শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং সাধারণ পাঠক বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন–রূপরেখা এক নজরে বুঝতে পারেন। আমরা বিশ্বাসযোগ্য উৎসস্বচ্ছ উপস্থাপন এবং সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য কাঠামো নিশ্চিত করি।


📬 যোগাযোগ করুন

এই প্রোফাইলে কোনো আপডেট/সংশোধন/নতুন তথ্য যোগ করতে চাইলে আমাদের সম্পাদকীয় টিমকে বার্তা দিন। আপনার অংশগ্রহণই আমাদের এই তথ্যভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে তুলবে।

📧 shababalsharif@gmail.com
🌐 https://shababalsharif.com


ধন্যবাদ!
আপনি এখন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত জানার যাত্রায় আছেন – আমাদের সাথেই থাকুন!