চার্লস তৃতীয়—অনেকে তাঁকে কেবল “রাজা চার্লস অব ইংল্যান্ড” মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি যুক্তরাজ্য ছাড়াও আরও ১৪টি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজার ভূমিকা পালন করছেন।
এই দেশগুলো একত্রে পরিচিত Commonwealth Realms নামে, এবং এগুলোতে চার্লস তৃতীয় হচ্ছেন সাংবিধানিক প্রধান।
এই লেখায় আমরা জানবো—তিনি কোন কোন দেশের রাজা, কীভাবে হন, কতটুকু ক্ষমতা রাখেন, এবং কেন এখনো রাজতন্ত্র টিকে আছে।
চার্লস তৃতীয় কে? – পরিচিতি সংক্ষেপে
পূর্ণ নাম: Charles Philip Arthur George
পদবি: King Charles III
জন্ম: ১৪ নভেম্বর ১৯৪৮
রাজা হন: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, রানী এলিজাবেথ II-এর মৃত্যুতে
সংবিধান অনুযায়ী: ব্রিটিশ রাজতন্ত্র উত্তরাধিকার সূত্রে
চার্লস তৃতীয় কোন কোন দেশের রাজা? (Commonwealth Realms)
১. যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
২. অস্ট্রেলিয়া
৩. কানাডা
৪. নিউজিল্যান্ড
৫. পাপুয়া নিউ গিনি
৬. জামাইকা
৭. বাহামা
৮. সেন্ট লুসিয়া
৯. সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস
১০. সেন্ট কিটস ও নেভিস
১১. গ্রেনাডা
১২. বেলিজ
১৩. অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা
১৪. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
১৫. তুভালু
এই দেশগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও, তারা চার্লস তৃতীয়কে সাংবিধানিকভাবে রাজারূপে স্বীকৃতি দেয়।
উনি কীভাবে এই সব দেশের রাজা হন?
মৃত্যু বা সিংহাসন ত্যাগের পর উত্তরাধিকার সূত্রে রাজা হন
প্রত্যেক দেশের নিজস্ব সংবিধানে “The Crown” বা “Monarch” হিসেবে স্বীকৃতি থাকে
রাজা হওয়ার পর প্রত্যেক দেশের আলাদা আলাদা গভার্নর জেনারেল তাঁর হয়ে কাজ করেন
চার্লস তৃতীয়র ক্ষমতা – আসল নাকি প্রতীকী?
| ক্ষমতা | বাস্তবতা |
|---|---|
| সাংবিধানিক প্রধান | প্রতীকী, কার্যকর ক্ষমতা নেই |
| গভার্নর জেনারেল নিয়োগ | হ্যাঁ, তবে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে |
| পাস করা আইনে সম্মতি দেন (Royal Assent) | এটি প্রথাগত, প্রত্যাখ্যান করার নজির নেই |
| রাজনৈতিক প্রভাব | নেই, তিনি সম্পূর্ণ রাজনীতি-নিরপেক্ষ |
তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো আইন বানান না, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ঐক্য, উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেন।
Commonwealth Realms বনাম Commonwealth of Nations – বিভ্রান্তি দূর করুন
Commonwealth Realms:
১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র, যেখানে রাজা চার্লস III সাংবিধানিকভাবে রাজারূপে স্বীকৃতCommonwealth of Nations:
৫৬টি দেশ—সবাই একই মহামিলনে, কিন্তু অধিকাংশ দেশে রাজা চার্লস রাজারূপে স্বীকৃত নন (যেমন: ভারত, বাংলাদেশ)
কেন এই দেশগুলো এখনো রাজা রাখে?
ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার
প্রতীকী ঐক্যের প্রতিফলন
কিছু দেশ ধীরে ধীরে প্রজাতন্ত্রে রূপ নিচ্ছে (যেমন: বার্বাডোস ২০২১ সালে রাজতন্ত্র বাদ দিয়েছে)
বর্তমান সময়ে বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ
অনেক দেশই এখন চার্লস তৃতীয়কে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্ন তুলছে
অস্ট্রেলিয়া ও জামাইকার মতো দেশে গণভোট বা সংবিধান সংশোধনের আলোচনা চলছে
তবে এখনো পর্যন্ত, এই দেশগুলো চার্লসকে প্রথাগত সম্মান ও সাংবিধানিক স্থিতি বজায় রেখেই রেখেছে
চার্লস তৃতীয় এমন এক আধুনিক রাজা—যিনি ১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু তার ক্ষমতা মূলত প্রতীকী ও ঐতিহাসিক।
এটি আমাদের শেখায়: রাজতন্ত্র শুধুই রাজত্ব নয়, এটি ঐতিহ্য, পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার প্রতীক।



